
রবিবার জানুয়ারি ১১ তারিখ, প্রভু যীশুর দীক্ষাস্নান পর্বদিনে সিলেট ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল, বিশপ মহোদয় শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ মহাদূত সাধু মিখায়েল প্রায়-ধর্মপল্লী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা এখন পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে সাধু যোসেফ শ্রমিক ধর্মপল্লীর একটা উপকেন্দ্র ছিল।

এখন সাধু মিখায়েল-এর বিভিন্ন গ্রাম পুঞ্জীর ক্ষুদ্র সমাজ হয়ে ওঠে একটা স্বাগতপূর্ণ ঘর ও যীশুকে অনুসরণ করার পথ।


প্রায়-ধর্মপল্লীর ১০টা গ্রাম পুঞ্জীর প্রতিনিধি হিসাবে ৭০০জন বেশি এ অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেছে। প্রভুর দীক্ষাস্নান পর্ব হলে, বিশপ মহোদয় ৬জন শিশুকে দীক্ষাস্নাত করেছেন। খ্রীষ্টযাগের শেষে বিশপ মহোদয় অমলোদ্ভবা মারীয়ার একটা মূর্তি আশীর্বাদ করেছেন, যে মূর্তি গির্জার সম্মুখভাগের উপরে, সাধু মিখায়েলের বিপরীত দিকে, রাখা হবে।
পরবর্তীতে, নাচ, গান, ধন্যবাদ দেওয়ার বক্তব্য ও সবার জন্যে ভ্রাতৃপ্রেমের খাওয়া দাওয়া দিনের আনন্দ পূর্ণ করেছে।



খ্রীষ্টযাগের শেষে, ফাদার ফ্রাঞ্চেস্কো রিজ্জো, নবীন ও প্রথম পালপুরোহিত, এ কথা বলেছেন,
পরম মহোদয় বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, সিলেট ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল, শ্রদ্ধেয় ফাদার জেমস শ্যামল গমেজ, সাধু যোসেফ শ্রমিক ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত, প্রিয় ভাই ফাদারগণ ও সিস্টারগণ, খ্রীষ্টে প্রিয় ভাই বোনেরা,
১। মহাদূত সাধু মিখায়েল গির্জার চারপাশে আমাদের দশটা গ্রাম-পুঞ্জীর ক্ষুদ্র খ্রীষ্টিয় সমাজ যে একটা প্রায়-ধর্মপল্লী আজকে হয়ে উঠেছে, অর্থাৎ এক পরিবার হিসাবে স্থাপিত হয়েছে, এ কথা আমাদের জন্যে বড় আনন্দের কারণ। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই!
২। আমাদের ধর্মপাল বিশপ মহোদয় শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, আজকের তাঁর এই আনুষ্ঠানিক ক্রিয়াটিতে, আমরা দেখতে পাচ্ছি খ্রীষ্টমণ্ডলীর এই অংশটির প্রতি তাঁর পালকীয় বিশেষ স্নেহ। এই নতুন ধর্মপল্লী সৃষ্টি করে তিনি আমাদের এই পরিবারটির যত্ন নিচ্ছেন। আমাদের বিশপকে ধন্যবাদ জানাই।

৩। পবিত্র ক্রুশ সম্প্রদায়ের বড় মিশনারী ফাদারদের প্রতি আমাদের ভক্তগণের কৃতজ্ঞতা প্রাণবন্ত। কামুদপুরের এই নতুন মিশন সেই পবিত্র ফাদারদের উত্তরাধিকার গ্রহণ করছেন।
৪। আমাদের ভক্তগণকেও ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। তাদের খুব কঠিন অবস্থায় থাকলেও – মানে, আর্থিক অভাব, দীক্ষা-শিক্ষার অভাব, ও খ্রীষ্টীয় জীবনের সাক্রামেন্টের অভাব – কারণ অনেক ক্ষেত্রে পাপস্বীকার ও খ্রীষ্টযাগ অনেক দিন পর পর তাদের গ্রাম ও পুঞ্জীতে পাওয়া যেত – তবুও এই কঠিন অবস্থায় থেকেও ওরা নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা নিয়ে তাদের বিশ্বাস বজায় রেখে তার সাক্ষ্য দিয়ে এসেছিল। যীশুর নামে তাদের সন্তানদের বড় করে এসেছিল। এই নতুন ধর্মপল্লী সম্ভব হয়েছে তাদেরই বিশ্বাসের ফলেই।
৫। ধন্যবাদ জানাই ইবাররা আমার ধর্মপ্রদেশকে। বিশপ মহোদয় ভাল্টের মাজ্জি, যিনি তাঁর নিজের সাহস আমাকে সঞ্চারিত করে ইকুয়েডর থেকে – ৮ বছর হয় – সিলেট ধর্মপ্রদেশে আমাকে প্রেরণ করেছেন, এবং বিশপ মহোদয় রেনে কবা, ইবাররার বর্তমান বিশপ, তাঁদেরকে স্মরণ করে আপনাদের মধ্যে উপস্থিত করতে চাই।
৬। মঙ্গলসমাচার প্রচারন ও খ্রীষ্টমণ্ডলীকে গড়ে তোলার কাজ, এই দায়িত্ব আজকে আমাদের সবার জন্যে নবায়িত করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে পাল-পুরোহিত ও ভক্তগণেরও দায়িত্ব। একইসময় একটা আনন্দময় ও দাবিদার দায়িত্ব, যার জন্য পরস্পরের জন্যে প্রার্থনা করতে হবে।
৭। মহাদূত সাধু মিখায়েল আমাদের এই নতুন প্রায়-ধর্মপল্লী সুরক্ষিত করুন। তাঁর সাথে, কুমারী মারীয়া, খ্রীষ্টের মাতা ও খ্রীষ্টমণ্ডলীর মাতা, তিনি যীশুর পথে আমাদের পদক্ষেপ পরিচালনা করুন।







